বিরাট কোহলির হাত ধরে ভারতীয় ক্রিকেট দল সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেছে। মেন ইন ব্লু নানা রেকর্ড গড়েছে। সাফল্য অর্জন করতে চেষ্টায় কোনো খামতি রাখেননি বিরাট কোহলিরা। ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতিতে কোহলি-রবি শাস্ত্রী জুটির অবদান অস্বীকার করা যাবে না। পর্দার আড়ালে থেকে কোহলিদের হেডস্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নিন্দুকেরা যাই বলুক, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে শাস্ত্রীর দেখানো রাস্তায় হেঁটে বিদেশের মাটিতে সফল হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এরকম বহু নজির রয়েছে। যেমন ২০১৮-১৯ মরসুমে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠেই কুপোকাত করে দেওয়া। যদিও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ায় টিম ইন্ডিয়ার অনেক সমালোচনা হয়েছে।

টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ হিসাবে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন রবি শাস্ত্রী। তারপর নতুন কোনো কোচ বেছে নিতে পারে বিসিসিআই। এখন থেকেই তা নিয়ে অনেক জল্পনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়ে যে পাঁচজন এগিয়ে রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে বিশদ নীচে তুলে ধরা হল।

. রাহুল দ্রাবিড়

কর্ণাটকের এই কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান একসময় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব শাসন করেছেন। তৈরি করেছেন অজস্র রেকর্ড। জুনিয়র দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এহেন দ্রাবিড় কেন কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন, সেটা তার পরিসংখ্যানের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ভারতীয় ক্রিকেটে দ্য ওয়াল নামে পরিচিত দ্রাবিড় তার দীর্ঘ কেরিয়ারে টেস্টে ১৩,০০০ এবং সীমিত ওভারের ফরম্যাটে ১০,০০০-এরও বেশি রান তুলেছেন। অনেক ম্যাচ একা হাতেই জিতিয়ে দিয়েছেন বর্তমানের এনসিএ প্রধান। তার তত্ত্বাবধানে নিউজিল্যান্ডে পৃথ্বী শাউয়ের নেতৃত্বে সাফল্যের ইতিহাস গড়েছে ভারতের জুনিয়র টিম। সিনিয়র টিমের কোচ হিসাবে রাহুল সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন কী না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

. টম মুডি

অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তী প্রাক্তন ক্রিকেটার তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জন্য পরিচিত। বিশেষে ক্রিকেটে মাঠে স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে তার জুড়ি মেলা ভার। ব্যাট এবং বল হাতে অস্ট্রেলিয়া দলের সাফল্যে টম মুডির ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাতীয় দলের হয়ে ৭৬টি ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ থেকে তিনি ১০টি অর্ধশত রান সহ করেছেন ১,২১১ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার জুনিয়রদের ট্রেনিংয়ের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। কোচিং ম্যানুয়াল তার নখদর্পণে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেটেও তিনি কোচ হিসাবে সফল হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী মুডিকে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ হিসাবে দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং কোচিং সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। কোচ হওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে থাকবেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

. ভিভিএস লক্ষ্মণ

ভারতীয় ক্রিকেটের আর এক কিংবদন্তী ভিভিএস লক্ষ্মণ। বিশেষত টেস্ট ক্রিকেটে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের রেকর্ড দেখলে বোঝা যায়, কেন তিনি একজন মহান ক্রিকেটার। তার ব্যাটে ভর করে ভারত অনেক ম্যাচ জিতেছে। যেমন ২০০১ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তার ঐতিহাসিক ২৮১ রানের ইনিংস এখনও ভারতীয় ক্রিকেট দর্শকদের মনে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

পরে আইপিএলে তাকে কোচ হিসাবেও দেখা গিয়েছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটিং কোচের ভূমিকা পালন করেছেন লক্ষ্মণ। ৪৬ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ক্রিকেটার ভারতীয় দলের কোচ হিসাবে কতটা সফল হতে পারেন।

. ট্রেভর বেলিস

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল ক্রিকেটার হিসাবে ট্রেভর বেলিসের সুনাম রয়েছে। এলিগেন্ট স্ট্রোক প্লে এবং দক্ষ কভার ফিল্ডার হিসাবে কেরিয়ারের দিনগুলিতে তিনি সেভাবে প্রচার পাননি। তবে কোচ হিসাবে তিনি প্রচারের আলোয় আসতে পেরেছেন।

২০০৪-০৫ মরসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচ হিসাবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবং সাথে সাথেই তিনি সাফল্যের স্বাদ অনুভব করেন। দলকে তিনি শেফিল্ড শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়। আন্তর্জাতিক দলকেও তিনি কোচিং করিয়েছেন। ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন বেলিস। তার অধীনে প্রথমবারের জন্য পঞ্চাশ ওভার ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড।

. মাহেলা জয়বর্ধনে

শ্রীলঙ্কার অন্যতম কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান তথা প্রাক্তন অধিনায়ক কোচ হিসাবেও যথেষ্ট সফল। বিশেষত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে তিনি অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার এই প্রাক্তন অধিনায়ক টেস্ট ক্রিকেটে ১১,০০০ রান এবং ওডিআই ফরম্যাটে ১২,৬৫০ রান করেছেন। কেরিয়ারের দিনগুলিতে স্বাভাবিকভাবেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় ভরসা।

এদের মধ্যে কে শেষপর্যন্ত বিরাট কোহলিদের হেডস্যার হবেন, সেটা সময়ই বলবে। তবে এটা বলা যায়, এই পাঁচজনের প্রত্যেকেরই অনেক ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান রয়েছে। বিসিসিআই কার উপর শেষ পর্যন্ত আস্থা দেখায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here